রয়টার্সের সমীক্ষা

চলতি বছর ব্রেন্টের গড় দাম হতে পারে ব্যারেলে ৬৭.৬৫ ডলার

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো সম্প্রতি উত্তোলন বাড়িয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলো সম্প্রতি উত্তোলন বাড়িয়েছে। সামনের দিনগুলোয় এ দেশগুলো থেকে সরবরাহ আরো বাড়তে পারে। এছাড়া মার্কিন শুল্কের প্রভাবে চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে চলতি বছর জ্বালানি তেলের দাম এখনকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কা কম। ৩১ জন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার ৬৫ সেন্টে। এটি জুলাইয়ে দেয়া প্রাক্কলন ব্যারেলে ৬৭ ডলার ৮৪ সেন্টের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত।

সমীক্ষায় আরো জানানো হয়, চলতি বছর মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার ৬৫ সেন্ট। গত মাসে ব্যারেলে ৬৪ ডলার ৬১ সেন্টের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এবিএন এএমআরওর সিনিয়র এনার্জি ইকোনমিস্ট মুতাজ আলতাগলিবি বলেন, ‘ওপেক প্লাসের সাম্প্রতিক উত্তোলন বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী নিম্নমুখী চাহিদার কারণে ২০২৫ সালে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্যটির চাহিদাও কমে যেতে পারে। এছাড়া ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত ভূরাজনৈতিক ফলাফল নিয়েও বাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।’

চলতি মাসের শুরুতে ওপেক প্লাস ঘোষণা দিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানো হবে। জার্মানিভিত্তিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এলবিবিডব্লিউর হেড অব কমোডিটি রিসার্চ ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার বলেন, ‘বর্তমানে বাজার হিস্যা পুনরুদ্ধারই ওপেক প্লাসের মূল লক্ষ্য। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পণ্যটির বাজারে বড় ধরনের সরবরাহের উদ্বৃত্ত তৈরি হবে। এর প্রভাবে জ্বালানি তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

তবে সমীক্ষায় অংশ নেয়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন শুল্কের হুমকি রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে সীমিত প্রভাব ফেলবে। কারণ ওপেক প্লাসভুক্ত ও অন্য সরবরাহকারী দেশগুলো এ ঘাটতি সামাল দিতে সক্ষম।

এদিকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা ২০২৫ সালে দৈনিক পাঁচ লাখ থেকে ১১ লাখ ১ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত বাড়তে পারে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এর আগে দৈনিক ৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

আরও